

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি’র ২ নেতাকে গুমের ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় হওয়া মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩ আসামীকে ২দিনের রিমাণ্ড শেষে আদালতে প্রেরণ করেছেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) এস এম শাকিল হাসান।মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ আগস্ট শিবগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি রমজান আলী ও এসআই গাজী মোয়াজ্জেম, আওয়ামী লীগ সমর্থিত অস্ত্রধারী ক্যাডারদের সহায়তায় বিএনপি কর্মী মোঃ মিজানুর রহমানকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে ৬মাস গোপনে আটকে রেখে পরে সাজানো ‘ক্রসফায়ার’ নাটক মঞ্চস্থ করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
একই বছরের ২৭ ডিসেম্বর, রাজশাহীর সাহেব বাজার এসএস প্লাজার একটি ছাত্রাবাস থেকে ছাত্রনেতা মোঃ রেজাউল করিমকে সাদা পোশাকে এসআই গাজী মোয়াজ্জেমের নেতৃত্বে পুলিশ তুলে নেয়। সেই থেকে রেজাউল করিমের আর কোনো খোঁজ মেলেনি—তিনি আজও নিখোঁজ।
প্রায় আট বছর পর, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর রেজাউল করিমের বাবা শিবগঞ্জ থানায় মামলা (মামলা নং-২৫, জি আর নং-৪৭৪/২৪) দায়ের করেন। মামলায় ১২ জনকে আসামি করা হয়, যাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুস সালাম, আবু কালাম আজাদ, ইশতিয়াক আহমেদসহ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ একাধিক সন্ত্রাসী।
মামলার বাদী আলহাজ মোঃ আয়নাল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুম ও হত্যার নেপথ্যের নরপিশাচদের ফাঁসি চাই। বিশেষ করে আব্দুস সালাম, আব্দুল কালাম আজাদ ও ইশতিয়াকের মৃত্যুদণ্ড চাই, যাতে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি না হয়, কোনো বাবার কোল শূন্য না হয়।”
নিখোঁজ রেজাউল করিমের সন্ধানে তিন আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) শাকিল হাসান বলেন, “আমরা যা পেয়েছি, তা আদালতে তুলে ধরা হবে।”