

ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে গেল এক্সপোর্টের জন্য প্রস্তুত থাকা ৩ কোটি টাকার পণ্য, সুতা উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল, মেশিনারিজসহ প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ। আগুনের ভয়াবহতা এতই তীব্র ছিল যে প্রতিষ্ঠানের ৪শ’ শ্রমিক ছিল নির্বাক দর্শক। প্রিয় প্রতিষ্ঠান পুড়ে যাচ্ছে এই আহাজারি করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না কুষ্টিয়া অঞ্চলের একমাত্র শতভাগ এক্সপোর্টকারী প্রতিষ্ঠান ভেড়ামারার আল-আমীন জুট মিলস শ্রমিকদের। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের ১০ ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনাটিকে ভয়াবহ একটি বিপর্যয় বলে দাবি করেছেন আল-আমীন জুট মিলস এবং ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
সূত্র জানায়, আল আমীন জুট মিলসের পূর্ব দিকের ইউনিটটি উৎপাদন শেষ করে রাত ১০টার দিকেই বন্ধ করে দেয়া হয়। অন্য ইউনিটগুলোর তখনো চলমান ছিল। রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করেই দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুন দেখতে পান শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠানে থাকা আগুন নির্বাপক যন্ত্র দিয়ে তারা আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালায়। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস। এরপর একে একে যোগ দেয়, কুষ্টিয়া, মিরপুর, ঈশ্বরদী, গ্রিনসিটি এবং কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট। আল আমীন জুট মিলস’র এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর সাদেকুর রহমান সান্টু জানিয়েছেন, উৎপাদন ফ্লোর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে। পুড়ে ছাই করতে থাকে মেশিনারিজ, এক্সপোর্টের জন্য প্রস্তুত পণ্য, গুদামে থাকা কাঁচামাল পাটসহ সব কিছু। আমাদের এত শ্রমিক, এত আগুন নির্বাপক ব্যবস্থা। সব কিছুই যেন অসহায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পাট গুদামে এত পরিমাণ পাট, এমনভাবে সাজানো, আগুনের লেলিহান শিখা পাটের পরতে পরতে পৌঁছে গেছে। ইসলামী ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ আল আমীন জুট মিলস’র ডিরেক্টর আল আমীন জানিয়েছেন, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৭০০ টন পাট, এক্সপোর্টের জন্য প্রস্তুতকৃত প্রায় ২০০ টন সুতা, উন্নতমানের ১০টা মেশিন, উন্নতমানের ২০টা মেশিন (আংশিক) পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল ইসলাম, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুস সাত্তার জানান, জুট মিলসটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। ব্যাংকের সার্বিক তদারকিতে আল আমীন জুট মিলস এখন শতভাগ এক্সপোর্টকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের একটি সুতাও টাকায় বিক্রি হয় না, ডলারে বিক্রি হয়। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা সহজে পূরণীয় নয়।