বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ডিজিএম‘র বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২০
  • ২৫৮ বার পঠিত

ঘুষের দাবী ৮০ হাজার টাকা না দিলে দশ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ জেলের হুমকি দেয়ার গুরুত্বর অভিযোগ পাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম এর বিরুদ্ধে । অপরাধ না থাকলেও হয়রানী করায় ভূক্তভোগী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে লিখিতভাবে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ ও হয়রানি থেকে মুক্তির আবেদন করেন। অভিযোগে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম বলেন ডি.জি.এম আমার কাছে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এবং এবং টাকা না দিলে আমাকে দশ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ জেলহাজত এর ভয় দেখানোর কথা উল্লেখ করেন।

মিটার গ্রহক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের কামাত গ্রামের মৃত মোঃ জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তার হিসাব নং- ০২-৩৩৪-৪০১৮, এলাকা কোডঃ ৬০১০৩,ভ্যাট রেজি নং- ৬০৩১০১৫৫০১। গ্রাহক জাহাঙ্গীরের মিটার খুলে নেয়া হয় গত ২৯ জানুয়ারী। এর আগে সব বিলে সার্ভিস চার্জ ও কোন বকেয়া না থাকার রেকর্ড না থাকলেও হয়রানী করতে সার্ভিস চার্জ হিসেবে ৩৫৮ টাকা ও বকেয়া ৯৭৬ টাকা জানুয়ারী মাসের বিলে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী ও গ্রাহক জাহাঙ্গীর ১ ফেব্রুয়ারী থেকে দফায় দফায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম ও নবাবপবিসের জিএম এর কাছে কাকুতী মিনতি করেও কোন সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া তো দুরের কথা বার বার ঘুষের টাকা প্রদানের জন্য চাপ দিতে থাকেন,পাশাপাশি হুমকি দেন। কোন অপরাধ না করেও মিটার খুলে নেয়ার পর টাকা না দেওয়ায় ও পুনঃমিটার সংযোজন না করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে হয়রানী ও বিলে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের কাজ করছে।

পারকালুপুর গ্রামের গ্রাহক সানাউল্লাহর সেচ বিদ্যূত মিটার কোন অভিযোগ না থাকার পরও গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মিটার খুলে নেয়া হলে পূনঃ সংযোগ চাইতে গেলে ৪০ হাজার টাকা দাবী করা হয়। একমাস পর কাউন্টারে ৩০ হাজার টাকা জমা দিলে ৪ হাজার টাকার রশিদ ও বিলের কপিতে হাতে লিখে অন্যান্য আনসঙ্গিক বিষয় উল্লেখ করে ২০ হাজার টাকার একটি বিল কপি গ্রাহককে প্রদান করা হয় কাউন্টার থেকে। পরে (সামনে ) বিল কপি প্রদানের সময় আরো ১৫-১৬ হাজার টাকা দেয়ার অঙ্গিকারে ফেব্রুয়ারী মাসের ১০-১২ তারিখে মিটার ও সংযোগ করা হয় বলে সানাউল্লাহর ছেলে জাকির হোসেন জানান। জাকির আরো বলেন দুই কাঠা জমি বিক্রি করে টাকা দিতে বাধ্য হই , আর তা নাহলে জমির আবাদ শেষ হয়ে যেত। জরিবানাসহ ৪৫ হাজার ৫৭৭ টাকা ধার্যের বিপরীতে ২৮ হাজার ৪২৪ টাকা আদায় হয় বলে জানান ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মর্তুজা।

নতুন সংযোগের জন্য ডিজিএম মোঃ গোলাম মর্তুজা উপরি টাকা ছাড়া পোল স্থাপনের আদেশ দেন না বলে গুরুত্ব অভিযোগ ভুক্তভোগীসহ পুকুরিয়াস্থ পলাøী বিদ্যুৎ সমিতির আশপাশের লোকজনেরও।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলাøী বিদ্যুৎ সমিতি শিবগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মর্তুজা বিভিন্ন অভিযাগের বিপক্ষে বলেন শতভাগ স্বচ্ছতার জন্য দালালমূক্ত করায় দালালরা মিথ্যা অভিযোগ করছে,যা তদন্ত করলেই অভিযোগ ভিত্তীহীন প্রমান করতে পারবো,কোন অনিয়ম ও দূর্নীতিতে আমি জড়িত নই,জাহাঙ্গিরের কাছ থেকে ঘুষ বাবদ ৮০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ ভিত্তীহীন।

এদিকে, কয়েক মাসে প্রায় এক হাজার জন বিদ্যূত সংযোগের আবেদন করাসহ টাকা জমা দেয়ার পরও মিটার না পাওয়ায় সরকারের বিদ্যূত সংযোগ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে মারাত্তক ব্যাঘাত ঘটাসহ গ্রাহকদের হয়রানী করার অভিযোগ রয়েছে ডিজিএম প্রকৌশলী মোঃ গোলাম মর্তুজার বিরুদ্ধে। মিটারের জন্য টাকা জমা হলেও পলাøী বিদ্যুতের লাইনম্যানরা ডিজিএম‘র দূর্ব্যাবহারের কারণে সঠিকভাবে দাযিত্ব পালন করছেনা বলে অনেকেই জানান। গোলাম মর্তুজা জানান গত দুই মাসে ৫৮০ জন নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করেছেন,মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন আসলে সংযোগ প্রদান করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৮৯২ জন গ্রাহকের মধ্যে শিবগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৯৮ হাজার ১৫৮ জন বলে জানান, ডিজিএম গোলাম মর্তুজা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম জানান জাহাঙ্গির হেড অফিসে লিখিত অভিযোগ করেছে কিনা জানা নেই ,তবে তার কাছে জাহাঙ্গিরসহ তার লোকজন মৌখিকভাবে সমস্যার কথা জানিয়েছিল বলে স্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!