বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে কে হবেন নৌকার কান্ডারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১০৪ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন পারিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মুজিবুর রহমান গত ৮ জানুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলে চেয়ারম্যান পদ টি শুন্য হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এক পত্রে ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ ও উপনির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করে। ২ টি ইউনিয়নে সাধারণ নির্বাচন ও ৮১ টি ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ মার্চ ২০২০। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ইং। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও গোমস্তাপুর উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার মধ্যে শুধু পাঁকা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই পাঁকা ইউনিয়নে টানটান উত্তেজনা বিরাজমান। জনগণের আলোচনার একমাত্র বিষয় কে হবেন পাঁকা ইউনিয়নের নৌকার কান্ডারী। গত ২০১৬ ইং সালে অনুষ্ঠিত পাঁকা ইউপি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ হচ্ছে চায়ের আড্ডায়। মরহুম মজিবুর রহমান- আনারস ৪৩৩৯, মোঃ আব্দুল মালেক- ধানের শীষ ৩২৯৬, আশফাকুর রহমান রাসেল- চশমা প্রতীকে ২৭০৩ ভোট পেয়েছিলেন। সাদিকুল ইসলাম- ঘোড়া প্রতীকে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন- নৌকা প্রতীক নিয়ে ও মোঃ তরিকুল ইসলাম- মোটরসাইকেল প্রতীকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।

কথিত আছে সেই নির্বাচনে আশফাকুর রহমান রাসেল ছাড়া প্রত্যেক প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রায় ২২ থেকে ২৫ লক্ষ টাকা করে খরচ করেছিলেন। কিন্তু রাসেলের ভোটের সমস্ত খরচ দিয়েছিলেন জনগণ। এমনকি জামানতের টাকাও জমা দিয়েছিলেন জনগণ স্বেচ্ছায়। জনগণের হৃদয়ে স্থান করতে টাকা লাগে না এর দৃষ্টান্ত রাসেল।

আসন্ন উপনির্বাচনে ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে আবারও নেমেছেন আবদুল মালেক, বীব মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন ও আশফাকুর রহমান রাসেল। এছাড়াও প্রয়াত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান এর স্ত্রী পারভিন বেগম, জালাল উদ্দীন ও কেনাল আলী তিনজন নতুন মুখ চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, নতুন তিনজন প্রার্থীর রাজনীতির মাঠে একেবারেই নবীন। ইসমাইল হোসেন পাঁকা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তিনি পারিবারিকভাবে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দলীয় সংগঠনের সাথে সক্রিয় ভাবে সম্পৃক্ত হলেও তার ব্যক্তি ইমেজের নেতিবাচক কারণেই গত নির্বাচনে নৌকার ভভরাডুবি হয়।

অন্যদিকে আশফাকুর রহমান রাসেল ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে পাঁকা ইউনিয়নের যুবলীগের কাউন্সিল, শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগ ও আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অন্যতম মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠক, মানবাধিকার কর্মী, কবি ও শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে সুপরিচিত।

এছাড়াও তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিকবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও পাঁকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট আতাউর রহমানের ছেলে এবং বর্তমান এমপি ডাক্তার সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের ভাগনে। তার মা ফেরদৌসী রহমান ও দাদী মেহেরজান বেগম ছিলেন অত্র উপজেলার অন্যতম মমতাময়ী সমাজসেবক ও নারী জাগরণের পথিকৃৎ। পারিবারিক দাতব্য রীতিনীতির মধ্যে বেড়ে উঠা রাসেল জন্মলগ্ন থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়ে উঠেছেন। পরিবার ও জনগণের উৎসাহ অনুপ্রেরণায় শিশুকাল থেকেই শুরু হয় তার রাজনৈতিক পদচারণা।

২০০৩ ইং সালে উনি মইন উদ্দিন আহমেদ মন্টু ডাক্তার, আ আ ম মেসবাহুল হক বাচ্চু ডাক্তার, অব. ব্রী. জেনারেল ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক সহ জেলার অন্যান্য খ্যাতিমান রাজনীতিবিদদের সাথে প্রথম রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা করেন। জ্বালাময়ী ও স্পষ্টবাদী বক্তা হিসেবে রাসেলে সুনাম রয়েছে স্কুল জীবন থেকেই। পাঁকা ইউনিয়নের সকল শ্রেণীর নারী পুরুষ ও নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের রাজনীতিতে সবচেয়ে কম বয়সী যুগান্তকারী সৈনিক হিসেবে সিনিয়র ও তরুণ মহলে বেশ সমাদৃত।

এমতবস্থায় কে হবেন এবারের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের উপযুক্ত কান্ডারী সে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সমগ্র ইউনিয়ন জুড়ে। জনসাধারণের প্রত্যাশা এমন একজন নৌকার প্রার্থী যেনো আওয়ামী লীগের বিজয় হয় সুনিশ্চিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!