মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৩:২৭ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জে সরকারী ক্যানেলের পানি সেচে অবৈধভাবে মাছ শিকারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৬৬ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার একটি খালের পানি সেচে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালি মহলের বিরুদ্ধে। উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর ব্রীজ সংলগ্ন কানসাট-কর্ণখালী খালে (ক্যানেল) সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মাছ শিকারের এ অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে করে ওই খালে মাছের পোনাসহ ছোট ছোট মাছ নষ্ট হবার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ।

বৃহষ্পতিবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়- মির্জাপুর-কর্ণখালী বিলের অদূরে ওই খালে ৪-৫টি শ্যালো মেশিনে পানি উঠিয়ে ওই এলাকার আমবাগানসহ পার্শ্ববর্তী জমিতে ফেলা হচ্ছে। আর সাব লিজ নেয়া ইব্রাহিম ও সেলিম ওই খাল লিজ নিয়ে পানি সেচে মাছ ধরার কথা স্বীকার করেছেন।

তারা কার কাছ থেকে লিজ নিয়েছে জানতে চাইলে তারা জানায়, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি নিয়ে জেলা প্রশাসনের দপ্তর থেকে বিলভাতিয়া-কর্ণখালী বিলের লিজ নেন গোমস্তাাপুর উপজেলার রহনপুরের সাবের আলী। তার কাজ থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ বালিয়াদিঘি গ্রামের আবদুস সালাম সাব লিজ নেয়। ইব্রাহিম ও সেলিমসহ বেশ কয়েকজন আবদুস সালামের কাছ থেকে পুনরায় তৃতীয় বার লিজ নিয়ে মাছ শিকার করছে।

ইব্রাহিম আরও জানায়, মোট ৬ বছরের জন্য এই খাল লিজ নিয়ে মাছ শিকার করছে তারা।

এদিকে পানি সেচে মাছ শিকারের খবর পেয়ে দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল কয়েকজন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে পানি সেচ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও এতে তারা কর্ণপাত করেনি।

জলাশয়ের লিজ ও মাছ শিকারের বিষয়ে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মন্ডলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জলাশয়টি মৎস্য বিভাগ থেকে লিজ দেয়া হয়নি।

কিন্তু জলাশয়ের লিজ সংক্রান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত ২০০৯ সালে ২৫ জুন সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৭ নং শাখা থেকে একটি গেজেট প্রকাশিত হয়। গেজেটে ৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ইজারাকৃত জলমহলগুলো কোন ক্রমেই সাব লিজ দেয়া যাবেনা। যদি সাব লিজ দেয়া হয়, তাহলে ওই জলমহলের ইজারা জেলা প্রশাসক/উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাতিল করবেন এবং জামানতসহ জমাকৃত ইজারা মূল্য সরকারের অনুকুলে বাজেয়াপ্ত হবে। ওই ইজারা গ্রহিতা সমিতি পরবর্তী তিন বছর কোন জলমহলের ইজারা জন্য বা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ২১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- বন্দোবস্তোকৃত/ইজারাকৃত জলমহলের কোথাও প্রবাহমান প্রকৃতির পানি আটকিয়ে রাখা যাবেনা।

সিনিয়র ঐ মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, কোন জলমহল/খাল সেচ যন্ত্র দিয়ে পানি সেচে মাছ শিকার করা যাবেনা। কেননা সম্পূর্ণ পানি সেচে ফেলা হলে মাছের পোনাসহ ছোট ছোট মাছ ধ্বংস হয়ে যাবে। পাশাপাশি ওই খালের সমস্ত জলজ প্রাণিও ধ্বংস হয়ে যাবে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হবে পরিবেশের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতার জানান, জলমহলের ইজারার বিষয়টি ও এর নীতিমালাগুলো জানা নেই। তবে বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ads

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!