সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০১:২৮ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জের কে এই করিম? কর্মচারী থেকে লাখোপতি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ১৭৯ বার পঠিত

মো. আব্দুল করিম, তিনি এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি আসলে কে? তাঁর পরিচয়টা বা কি? বর্তমানে তাঁর অর্থবিত্ত কেমন? তাঁর আয়ের উৎসটা কি? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নিশ্চয়?

মো. আব্দুল করিম; চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা শাহবাজপুর ইউনিয়নের সাহেবনগর হঠাৎপাড়ার মৃত এনামুল হকের ছেলে। তাঁর জন্মের ৫ বছর পর তাঁর পিতা মারা যান। এরপর থেকে তিনি নানা আজাহার আলী ভাক্কুর বাড়িতে পালিত হয়েছে। ঠিক আজ থেকে প্রায় ৪/৫ বছর আগে তিনি কানসাট ক্লাব সুপার মার্কেটের একটি গার্মেন্টস দোকানে কর্মচারি হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি লাখোপতি। রয়েছে তাঁর নামে-বেনামে ২টি ট্রাক। এছাড়াও ২টি বাড়ি। তিনি ৩ লক্ষাধিক টাকার মূল্যে ব্যবহার করেন মোটরসাইকেল। প্রায় প্রতি ৬মাস অন্তর মোটরসাইকেল পরিবর্তন করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একজন কর্মচারি হয়ে কয়েক বছরের ব্যবধানে লাখোপতি! তাঁর এসব আয়ের উৎস কোথায়?

এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল করিমের আপন মামা পার দিলালপুর গ্রামের মো. আজাহার আলীর ছেলে মো. বাসির আলী একজন চোরাকারবারী এবং জালনেটের মেশিনসহ আটক হয় ঢাকায় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র-মাদক সহ ডজন খানেক মামলার আসামী। তিনি তাঁর মামার সাথে যোগসাজসে ব্যবসা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিবগঞ্জ থানার মামলা নম্বর- ২১, তারিখ-০৯/০১/২০১৮, মামলা নম্বর-২০ তারিখ-০৯/০১/২০১৮ / ও মামলা নম্বর ০৭ তারিখ- ০২/০৬ /২০১৮খ্রি..।

এছাড়াও মো. আব্দুল করিম এলাকার দরিদ্র মহিলাদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এবং সরকারি বাড়ি-ঘর- টিউবওয়েল দেয়ার নাম করে তাঁদের কাছ ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেন। তাছাড়া শাহবাজপুর ইউনিয়ন-ওয়ার্ড দলীয় পদ দিতে বিভিন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকেও ১০/১৫ হাজার করে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এছাড়াও তিনি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকার বিভিন্ন সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি করারও অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্বঘোষিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। যা বন্দরে চাঁদাবাজির করার আরেক পন্থা বলে অনেকে অভিযোগ করছেন।

এব্যাপারে অভিযোগ করে ভূক্তভোগী শাহবাজপুর ইউনিয়নের দিলালপুর নয়াগাঁ গ্রামের জিন্নাত আলীর স্ত্রী মোসা. তাসলিমা বেগম জানান, আমি গরিব মানুষ, আমার কোনো বাড়ি-ঘর নাই। তাই আমাকে সরকারি বাড়ি পাইয়ে দিবে বলে করিম আমার কাছ থেকে ৪ হাজার নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই পাইনি। তিনি আরো জানান, শুধু আমি নয়, আমার মতো অনেকে আছে যারা করিম কে টাকা দিয়েছে।

অন্যদিকে, একই গ্রামের ভূক্তভোগী শ্রী খোগেন সাহা’র স্ত্রী শ্রীমতি প্রতিমা চঞ্চলা রানী জানান, আমাকে ঘর দিবো বলে করিম আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছে। সে আমাকে বলেছে তোমরা যদি টাকা না দাও, তাহলে ঘর পাবে না। আমরা গরীব হওয়ায় ঘরের আশায় করিম কে টাকা দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঘরও দিচ্ছে না, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।

এব্যাপারে অভিযুক্ত মো. আব্দুল করিম অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করিনি। আমি একটি দোকানের ছিলাম, যা কাজ শিখার জন্য। এছাড়া আমি কোনো অসহায় ব্যক্তিদের কাছ থেকে তেমন কোন টাকা আদায় করিনি। বাড়ি দেয়ার নাম করে মাত্র ৮জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করেছি। কিন্তু তাদেরকে বাড়ি দেয়া হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেয়া হয়নি।

এছাড়া তিনি আরো জানান, আমি বর্তমানে জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সোনামসজিদ স্থলবন্দর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছি। দলীয় পদ থাকলে অনেক সময় অর্থ পাওয়া যায়। যা আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বণ্টন করে নেয়া হয়। তাই দলীয় পদ পেতে আমার কিছু টাকা খরচ হয়েছে। তিনি বলেন, আমার মামা বাসির আলীর সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ বা কোনো ব্যবসা নাই। আমি আমার মামার সাথে তেমন চলা ফেরা করিনা।

অপরদিকে, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুল করিমের এসব অপকর্মের বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি এখন জানলাম। সমাজের সাথে প্রতারণাকারী কোন ব্যক্তিকে দল সমর্থন করে না। আমি ও আমার দলীয় কোন ব্যক্তি যদি এসব অপকর্মের সাথে জড়িত হয়, তাহলে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!