বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৫:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে নৌকার মাঝি ইসমাইল হোসেন মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রস্তুতিমূলক সভা নাচালে আ’লীগের সভাপতি-ইসরাইল ও সম্পাদক কাদের নাচোলে এসেডো’র মুক্তি প্রকল্প পরিদর্শনে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ইউকে’র প্রতিনিধি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জে নবাব মিষ্টান্ন ভান্ডারকে জরিমানা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে মতবিনিময় ও সাধারণ সভা রামচন্দ্রপুর হাট থেকে ফেনসিডিলসহ আটক-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়ীতে ফল উৎপাদন প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপিত মোস্তফা, সম্পাদক জামাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী

১৪ বছরেও ধরা পড়েনি পলাতক ২১ জঙ্গি

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ৫১ বার পঠিত

নিজেদের শক্তির জানান দিতে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৩ জেলায় একযোগে পরিকল্পিতভাবে বোমা হামলা চালায় জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ-জেএমবি। এই হামলার ঘটনায় ১৫৯টি মামলায় আসামি করা হয় ১১০৬ জনকে। বিভিন্ন অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ১০২৩ জনকে।

সাজাপ্রাপ্ত ৩৩৪ জনের মধ্যে ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এর মধ্যে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হলেও বাকি ২১ জঙ্গি এখনও পলাতক। এসব মামলায় খালাস দেয়া হয়েছে ৩৪৯ জনকে। বাকি আসামিরা পলাতক।

সিরিজ বোমা হামলায় দুজন বিচারক নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক। বিশ্বের ইতিহাসে নজিরবিহীন এই হামলার পর সামনে চলে আসে জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

সূত্র জানায়, সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সর্বোচ্চ ২৩টি মামলা হয় ঢাকা ও খুলনা রেঞ্জে। ৩টি করে মামলা হয় খুলনা মহানগর ও রেলওয়ে রেঞ্জে। মহানগরীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয় ডিএমপিতে। ডিএমপিতে ১৯টি মামলা হলেও ৯টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে ৯টির। এই ১৩ বছরে মোট ৭ জন আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তবে ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে ৬ জনের। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি। এখনও সব মামলার বিচার শেষ হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, যাদের ফাঁসি এখনও কার্যকর করা যায়নি, তারা পলাতক। যারা সাজা খেটে বেরিয়ে গেছেন বা জামিন নিয়ে পলাতক আছেন তারা ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। তারা পুলিশের নজরদারিতে রয়েছেন। অনেকে ধরা পড়ছে। এই মুহূর্তে বড় ধরনের হামলা চলানোর শক্তি তাদের নেই। জঙ্গিরা যাতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সেজন্য পুলিশ সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গিরা বেশিরভাগ স্থানেই রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। কোথাও টিফিন ক্যারিয়ারে বোমা রাখা ছিল। এসব বোমা জঙ্গিদের হাতে তৈরি। হামলার স্থান হিসেবে ওরা সুপ্রিমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেস ক্লাব ও সরকারি-আধাসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে বেছে নেয়। হামলাস্থলে জেএমবির লিফলেট ছিল। সেখানে ‘আল্লাহর আইন কায়েম ও প্রচলিত বিচার পদ্ধতি’ বাতিলের দাবি ছিল। ওই হামলার পর থেমে থাকেনি জঙ্গি কার্যক্রম। ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ হত্যা করে প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ছিনতাই, বিভিন্ন স্থানে ব্যাংক লুটের ঘটনায় জঙ্গিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। হলি আর্টিজান, শোলাকিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলার ঘটনা সিরিজ বোমা হামলার পথ ধরেই ঘটেছে বলে তাদের ধারণা।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার আমলে এ হামলাটি হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তদের ফাঁসি হয়ে গেছে। এরপরও জেএমবির পালিয়ে থাকা সদস্যরা মাঝেমধ্যেই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। তবে তাদের সেই ক্ষমতা আর নেই। হলি আর্টিজান হামলার পর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে।

পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিদের অবস্থান রয়েছে এটা বিশ্বে জানান দেয়ার জন্যই ওই সময় এ হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। এটা দেশের অন্যতম বড় ঘটনা। পুলিশি তৎপরতায় তাদের ভীত অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতায় তাদের মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

এদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এ দিনকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।

বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিক দল জঙ্গী প্রতিরোধে এবং তরুণ প্রজন্মকে এ বিষয়ে সচেতন করতে কর্মসূচী গ্রহণ করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!