বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৪০ অপরাহ্ন

রাশিয়ায় পরমাণু চুল্লিতে বিস্ফোরণ, ৫ বিজ্ঞানী নিহত!

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৮ বার পঠিত

গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন পরীক্ষার সময় হওয়া রহস্যময় বিস্ফোরণে মৃত পাঁচ পরমাণু বিজ্ঞানীকে মরণোত্তর সম্মান দিল রাশিয়া। তাদেরকে ‘দেশের নায়ক’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে ক্রেমলিনের তরফে।

মস্কোর এমন পদক্ষেপ এই বিস্ফোরণ ঘিরে বিশ্বের কৌতুহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কী এমন ঘটেছিল শ্বেতসাগরে, যার জেরে তড়িঘড়ি বিজ্ঞানীদের পুরস্কৃত করার পথে হাঁটল ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ?

টাইম ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যে প্রতিষ্ঠানে নিহত বিজ্ঞানীরা কাজ করতেন সেখানকার বৈজ্ঞানিক পরিচালক ভিয়াচেসলভ সোলোভিয়েভ স্থানীয় একটি টিভিকে বলেছেন, রাশিয়ার শ্বেতসাগরে (হোয়াইট সী) ঘটা বিস্ফোরণস্থলে একটি ছোট পরমাণু চুল্লিও ছিল।

এদিকে মার্কিন পরমাণু বিশেষজ্ঞদের দাবি, বিস্ফোরণটি শুধু সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত নয়, বরং পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম এমন কোনো কিছুতে ঘটেছিল।

এই ঘটনার পর বিস্ফোরণস্থলের পাশের একটি শহরে তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে যায়। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও তৈরি হয়। মস্কো অবশ্য এর কোনওটাই স্বীকার করেনি।

সিএনএন জানিয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত ৫ বিজ্ঞানী হলেন অ্যালেক্সে ভুশিন, ইয়েভজেনি করাতায়েভ, ভিয়াচেসলভ লিপশেভ, সের্গেই পিচুগিন ও ভ্লাদিস্লাভ ইয়ানোভস্কি।

রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র রোসাটম-এর অধীনস্থ একটি কেন্দ্রের প্রধান ভ্যালেন্টিন কস্টিউকভ সোমবার নিহত বিজ্ঞানীদের জন্য মরণোত্তর পুরস্কারের কথা ঘোষণা করে বলেন, ‘যারা পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন তারা প্রত্যেকেই দেশের নায়ক। তারা রাশিয়ার ফেডেরাল পরমাণু কেন্দ্রের প্রথম সারির গবেষক। বহু কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়েও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন।’

এই পাঁচ বিজ্ঞানী কী ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে গিয়ে মারা গেলেন, সে বিষয়ে রোসাটমের জারি করা বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ‘দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এমন একটি মিশনে তাঁরা কাজ করছিলেন।’

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে প্রথমে তেজষ্ক্রিয়তার কথা অস্বীকার করা হলেও, পরে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, যেখানে বিস্ফোরণটি ঘটেছে তার কাছেই সেভেরভিন্‌স্ক শহর। ঘটনার দিন সেখানে তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। যার জেরে স্থানীয়রা আয়োডিন মজুত করতে শুরু করেছিলেন। যদিও, তেজষ্ক্রিয়তার মাত্রা কতটা বেড়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

ads

ads

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali