সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:৩৬ অপরাহ্ন

জনগণের টাকা লোপাটের শীর্ষে শিবগঞ্জের এনজিও

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১
  • ৭১০ বার পঠিত

নামে-বেনামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজে উঠেছে অস্তিত্বহীন এনজিও নামে সুদের ব্যবসার প্রতিষ্ঠান। এই এনজিওগুলো সমাজ সেবা, যুব, সমবায় ও জয়েন্টস্টকের নিবন্ধন নিয়ে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরেটি (এমআরও)’র কোনো অনুমতি না থাকা সত্যেও তাদের ক্রেডিট লেনদেন করেই যাচ্ছে। এক সময়ের আস্থার প্রতীক এই এনজিওগলো জনগণের টাকা নিজ পকেটে নিয়ে উধাও ও লোপাট হয়ে যাচ্ছে পরিচালকরা। যেনো জনগণের টাকা আত্মসাৎ ও লোপাটের শীর্ষে পরিণত হয়েছে এই এনজিওগুলো।

এদিকে, গত ১ বছরের শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে লোপাট হয়ে প্রায় ৬/৭ টি নামে-বেনামে এনজিও। তার মধ্যে রুপালী সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, মার্সেল অরফানসবিডি ফাউন্ডেশন, কুসুম কলি পল্লী উন্নয়ন সোসাইটি, ফাইজা সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, আল রাজী ও পিয়াস ডেভেলপমেন্ট সহ নাম করা এনজিও। এসময় এনজিওর পরিচালকগণ জনগণের কোটি কোটি টাকা নিজ পকেটে নিয়ে লোপাট হয়েছে।

এছাড়া জনগণের টাকা নিজ পকেটে রেখে ফেরত না দেয়ায় আদালতে এক ভূক্তভোগীর দায়ের করা মামলায় এক এনজিও ২ কর্মকর্তা কারাগারে রয়েছে। এসময় ঘটনা ঘটালেও কোনো কর্ণপাত করছেন না স্থানীয় প্রশাসন বলে অভিযোগ ভূক্তভোগী জনগণের। অন্যদিকে, উপজেলা সমাজ সেবা ও যুব অধিদপ্তর বলছেন, আমাদের দপ্তর থেকে যাদের নিবন্ধন দেয়া হয়েছে, তারা শুধু সমাজের উন্নয়নের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হয়ে কাজ কাজ করবে। তারা কোনো ঋণ কার্যক্রম করবে না এই মর্মে তাদের কাছ থেকে প্রত্যায়ন পত্র নেয়া হয়েছে।

গত মাসের আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে জনগণের টাকা লোপাটের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জাসদের জেলা সভাপতি মো. আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, যে সব এনজিওগুলো সমাজ সেবা, যুব, সমবায় ও জয়েন্টস্টকের নিবন্ধন নিয়ে ঋণ কার্যক্রম চালাচ্ছে, তারাই অবৈধভাবে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরেটি (এমআরও) ও বাংলাদেশ ব্যুরো’র সনদ ছাড়াই পরিচালনা করছে। এসব অবৈধ এনজিও পরিচালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিবগঞ্জ উপজেলার সাধারণ জনগণ আরো বিপাকে পড়বেন। নামধারী অবৈধ এনজিও’র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা দ্রুত বন্ধ করার জোর দাবি জানান তিনি।

এদিকে, উপজেলা এনজিও ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মঈন আলী বলছেন, যে সব এনজিওগুলো উধাও ও লোপাট হয়েছে তা তাদের অভিজ্ঞাহীনতা ও নীতি বহির্ভূক কাজ এবং অদক্ষ কর্মী নিয়োগ দেয়ার জন্য। তাদের এই অভিজ্ঞাহীনতা ও নীতি বহির্ভূক কাজ এবং অদক্ষ কর্মীদের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ওই সব এনজিও পরিচালকগণ গাঁ ঢাকা দেয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থের মূখে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা জনগণের প্রয়োজনে এবং সহযোগিতার জন্য কাজ করতে এনজিও ফোরাম নামে একটি এনজিও সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। যেনো জনগণ ও এনজিও পরিচালকদের সব সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সবাই এক সাথে কাজ করতে পারি। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে আমাদের সাথে প্রায় ৮০টি এনজিও আসলেও পরবর্তীতের ৪৩টি প্রতিষ্ঠান এক সাথে কাজ করছি। তারপরও কিছু সুবিধাবাদী পরিচালক জনগণের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে এবং তাদের অদক্ষতার জন্য বর্তমানে এনজিও থেকে সাধারণ মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে নতুনভাবে কোন সংগঠন অনুমোদন দেয়া হয়নি। যে সকল সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা অফিসে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, আমরা যুব অধিদপ্তর থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিবন্ধন দিয়ে থাকি। যুব সংগঠনগুলো শুধুমাত্র স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবে। তারা কোনো প্রকার ঋণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না। তাদের কাছ থেকে ঋণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না এই মর্মে লিখিতভাবে প্রত্যায়নপত্র নেয়া হয়েছে। আর যদি কোনো যুব সংগঠন ঋণ কার্যক্রম চালায় আর যদি কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব-আল-রাব্বী জানান, শিবগঞ্জে যে সব অবৈধ এনজিও আছে, তাদের হতে জনগণকে সর্তকবার্তা পৌছে দিতে উপজেলায় সব এলাকায় মাইক প্রচার করে দিচ্ছে। যেনো সাধারণ জনগণ ওই সব এনজিওতে কোনো প্রকার এফডিআর, ডিপিএস ও অন্যান্য লেনদেন না করেন। প্রয়োজনে জনগণ যেনো ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করেন সে বিষয়েও মাইকিং করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali