সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

শিবগঞ্জের ১৮কি.মি. রাস্তা মেরামতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১
  • ৬৭৯ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ১৮কিলোমিটার রাস্তা মেরামতে বিভিন্ন ধরনের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী। রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে ২ নং ইটের খোয়া ও গুড়া, নিম্নমানের বালি, রাস্তা মাঝে মাঝে উঁচু-নিচু রাখা হচ্ছে। রাস্তার পার্শ্বে ৩ফিট প্রস্থ্য করে মাটি দেয়ার কথা থাকলেও কোন স্থানে ২ফিট আবার কোন স্থানে দেড় ফিট প্রস্থ্য করে মাটি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। রাস্তায় ধুলা-বালিতে একাকার হয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় পানি ছিটানো হচ্ছে না। তাছাড়া রাস্তার কাজ চলছে ধীর গতিতে। ফলে জনদূর্ভোগ কমছে না কোন মতেই। রাস্তার দুই পাশে প্রটেকশন ওয়াল দেয়া হলেও অনেক স্থানে রাস্তার পাশে বড় বড় খাদ থাকলেও সেখানে প্রটেকশন ওয়াল দেয়া হয়নি।

সরজমিনে ঘুুরে শিবগঞ্জ বাজার হতে শুরু করে দূর্লভপুর, বাররশিয়া, দাদনচক, বনকুল, হাউসনগর, মনাকষা ঈদগাহ মোড়, পারচৌকা, রানীনগর হঠাৎপাড়া ও সাহাপাড়া বাজার পর্যন্ত এবং মনাকষা বাজার হতে খাসের হাট পর্যন্ত প্রতিটি এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাস্তা মেরামতে কর্র্তৃপক্ষকে রাস্তার কাজ ভাল করার জন্য বার বার অনুরোধ করে তারা স্থানীয়দের কথায় কর্নপাত করছেন না কলে তাদের অভিযোগ। বর্তমানে মনাকষা বাজার হতে খাসের হাট পর্যন্ত রাস্তায় সরজমিনে দেখা গেছে, খোয়াগুলো ২ নং ইটের। খোয়ার সাথে ইটের গুড়া রয়েছে। তার সাথে শুকনা পাতা ও ময়লা মিশে আছে।

এব্যাপারে ম্যানেজার তুষার জানান, রাস্তার কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। শতভাগ শিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। তবে শিডিউল দেখতে চাইলে দেখানে অস্বীকার করেন। মনাকষা ঈদগাহ মোড় হতে সাহাপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার রাস্তার কয়েক স্থানে উঁচু-নীচু হয়ে আছে। যেখানে অল্প বৃষ্টিতে পানি জমে অতীতের মতই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে বলে এলাকাবাসী জানান।

তারা আরো জানান, রাস্তার পারচৌকা গ্রামের বিরেন মোড় হতে দফাদর মোড় পর্যন্ত রাস্তায় দেখা গেছে রাস্তার দুই পাশে ৩ ফিটের পরিবর্তে দেড়/দুই ফিট করা হচ্ছে। সে মাটির সাথে ছাই ও পলিথিনের আবর্জনা মিশিয়ে আছে বলে এলাকাবাসী জানান। পারচৌকা ও রানীনগর গ্রামের সীমানা বরাবর প্রায় ৪০-৫০ ফিট রাস্তা সরজমিন হতে আগের মতই প্রায় ১ফিট নিচু করা হয়েছে। হঠাৎপাড়া প্রটেকশন ওয়াল সরজমিন রাস্তা হতে প্রায় ২ফিট নিচু করা হয়েছে। এছাড়া একেবারে খাড়াখাড়ি করা হয়েছে। একই অবস্থা সিংনগর ও পারচৌকা গ্রামের মাথায় রাস্তার ক্ষেত্রেও ঘটেছে। পারচৌকা, শহিদুল ইসলাম, রবু, সফিকুল ও রানীনগর গ্রামের জেম, আসাদুল, সোহবুল জানান, আমরা বার বার বলার পরও তারা আমাদের কথায় কোন কর্ণপাত করছে না।

এ ব্যাপারে রাস্তা দেখাশুনার করার ম্যানেজার বাবুল ও আলফাজ জানান, আমরা শিডিউল মোতাবেক নিয়ম অনুযায়ী কারজ করছি। কোন অনিয়ম হয়নি। তবে শিডিউল দেখতে চাইলে তারা সংবাদ কর্মীদের সাথে দূর্ব্যবহার করে বলে যা পারেন লিখেন।

অন্যদিকে, মনাকষা ঈদগাহ মোড় হতে শিবগঞ্জ মনাকষা মোড় পর্যন্ত রাস্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন যাবত জনদূর্ভোগ চললেও রাস্তার কাজ ধীর গতিতে চলমান।

এব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবগঞ্জ বাজারের কয়েকজন দোকানদার রাস্তার পিচ দেয়ার ক্ষেত্রে ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত থাকলেও তার পরিস্কার করছে না। পিচ দেয়া রাস্তার উপরিভাগ সমতল থাকার নিয়ম থাকলেও এখন থেকেই উঁচু নিচু রয়েছে। তারা আরো জানান প্রায় দুই/তিন কিলো মিটার পিচের কাজ করার পর আবারো বন্ধ করে দিয়েছে। দুর্লভপুর, বাররশিয়া ও দাদনচক এলাকার মুন্না, নয়ন, মানু সহ অনেকইে জানান রাস্তার কাজ নিম্নমানের হচ্ছে। প্রতিবাদ করেও কিছু হচ্ছে না। আমাদের দূর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের নেতা মাহবুবুর রহমান মিজান বলেন, রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে নানা ধরনের অনিয়ন হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয়, রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দেরী করায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

এ ব্যাপরে রাস্তার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার মো. মইন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। কোথাও কোন অনিয়ম হয়নি। ইটের মধ্যে দুই একটি ২নং ইট থাকলেও সেটি ভাটাওয়ালাই করে থাকে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, শিবগঞ্জ হতে মনাকষা ঈদগাহ মোড় হয়ে সাহাপাড়া পর্যন্ত ও মনাকষা হতে খাসের হাট পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের ক্ষেত্রে ঠিকাদার পুরাতন কিচু উপকরণ ব্যবহার করতে পারবে। বালি ও খোয়া পরিমাান সমান-সমান থাকতে হবে। রাস্তা উচুঁ-নিচু থাকলেও নিয়ম অনুযায়ী সমান ভাবেই উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত কিছু দেয়া যাবে না। রাস্তার পাশে ৩ ফিট প্রস্ত করে মাটি দিতে হবে। কম থাকলে বিল কম পাবে। আমরা সেটি তদন্ত করে দেখবো। তিনি আরো বলেন জনদূর্ভোগ রোধে রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ ভাবে বলা হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali