সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নাচোলে মেয়রপদে পুনরায় ঝালু খান নির্বাচিত মোহনপুরে কোব্বাস আলী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি শিবগঞ্জে একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শাহবাজপুর ইউপির উপ-নির্বাচন সম্পন্ন: জুলফিকার নির্বাচিত ইউপির উপ নির্বাচন : শিবগঞ্জে ভোট গ্রহণ শেষ: চলছে গণনা ইউপি উপ-নির্বাচন : শাহবাজপুরের ৫নং ওয়ার্ডে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুত্রের হাতে পিতা খুন শাহবাজপুর ইউপির ৫ নং ওয়ার্ডে সদস্য পদে উপ-নির্বাচন আগামীকাল রাজশাহীতে সন্ত্রাসীদের দাপটে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠায় গৃহহীন ২’শ পরিবার শিবগঞ্জে দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন

অবশেষে জমে উঠেছে শিবগঞ্জে পৌর নির্বাচনী প্রচারণা: লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১৯০ বার পঠিত

আসন্ন শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অবশেষে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রার্থীরা পৌর এলাকা জুড়ে প্রচার-প্রচারণার সাথে সাথে ভোটারদের দিচ্ছে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি। এবার পৌর নির্বাচনে ৩ জন প্রার্থী থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষের। বিএনপি দলীয় প্রার্র্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করছেন ওজিউল ইসলাম ওজুল মিঞা ও আওয়মীলীগ দলীয় সৈয়দ মনিরুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির প্রার্থী অধ্যাপক আফজাল হোসেন থাকলে নেই তেমন প্রচার-প্রচারণা, নেই কোন সাড়া। প্রচারনায় ও প্রতিশ্রুতিতে কেউ পিছিয়ে নেই। উভয়েই প্রতিটি ভোটারের সাথে দেখা করে ভোট প্রার্থণা করছেন। সঙ্গে সঙ্গে পৌরসভার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে যাচ্ছেন।

১৯৯২ সালে স্থাপিত শিবগঞ্জ পৌরসভা সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা অধ্যাপপক শাহজাহান আলী মিঞার এলাকা হওয়ায় বরাবরই বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরই বরাবর বিজয়ী হয়ে এসেছেন। বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে ব্যতিক্রম ঘটেছে শুধু গত ২০১৫ সালের নির্বাচনে। আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক জামায়াত, বিএনপি ও আওয়ামীলীগ প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। এ নির্বাচনে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের হারানো পদটি পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। থেমে নেই আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। তারা প্রতিটি ভোটারের সাথে বর্তমান উন্নয়নে চিত্র ধরে ধরছেন।

তারা প্রমাণ করতে চাইছে যে, আওয়ামীগের শাসন আসলে সারা দেশের ন্যায় শিবগঞ্জেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তাছাড়া সৈয়দ পরিবার ব্যক্তিগতভাবে শিবগঞ্জ পৌরসভাসহ সারা উপজেলায় সেবামূলক কাজ করে আসছে। সেহেতু আওয়ামীলীগের প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বিজয়ী হলে শিবগঞ্জ পৌরসভা আধুনিক পৌরসভায় রুপান্তরিত হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। তাই জনগণ সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন।

সরজমিনে ঘুরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিভিন্ন পেশার মানুষ যারা প্রায় সাধারন ভোটার। তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিএনপির ভোটের ঘাটি ৬ ও ৭ নং ওয়ার্ডে আওযামীলীগ প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলামের নিজ এলাকা হওযায় সেই ঘাটি ভেঙ্গে তা ব্যক্তিগতভাবে সৈয়দ মনিরুল ইসলামের ভোট ঘাটিতে পরিণত হয়েছে। ৯নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন যাবত স্থানীয় সাবেক ও বর্তমান দুই কমিশনারের দ্বন্দের কারণে সাধারণ মানুষ এখনো আতঙ্কের মধ্যে থাকায় কেন্দ্রে ভোট দিতে যাবে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। বাকী ৬টি ওয়ার্ডের প্রায় ৪টিতেই বিএনপির ভোটার বরাবর বেশী হলেও দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন কারনে জনগনের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় বিএনপির প্রার্থীর কিছুটা বিঘœ হচ্ছে বলে এলাকর অনেকেই জানান।

তাছাড়া ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপির নেতা কর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে চরম হয়রনী করছে ও গ্রেফতারও করছে বলে বিএনপির অভিযোগ। তার গত ৪ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। তারা আরো জানান, বর্তমানে বিএনপি সমর্থক নেতা কর্মীরা বর্তমান সরকারী দলের প্রার্থীর কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের কারনে অনেকটা আতঙ্কের মধ্যে আছে। তবে আওয়ামীলীগের মধ্যে প্রায় ৪/৫ গ্রুপ থাকায় অনেক আওয়ামীলীগ কর্মী নিরব ভুমিকা পালন করছে। যা বিএনপির জন্য সুবিধা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আওয়ামীলীগ দিন দিন ক্ষতির দিকে যাচেছ।
তাছাড়া এপর্যন্ত জামায়াত পৌরসভা এলাকায় বিরাট অংকের ভোট দিয়ে নিরব ভুমিকা পালন করছে। অনেকের ধারণা বরাবরের মত বিএনপিকেই সমর্থন দিবে। বিএনপি প্রার্থী ওজিউল ইসলাম ওজুল নিজেও আশাবাদী যে জামায়াত বিএনপিকেই সমর্থন দেবে এবং নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হলে ১৪ তারিখে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমি জয়ী হবো। যেহেতু তারা নিজেরা নির্বাচন করতে পারছে না। তাছাড়া বর্তমান মেয়র কারিবুল হক রাজিনকে বর্তমান আওয়মীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলামের পক্ষ থেকে কোন তোয়াক্কা না করায় তিনি মাঠে নৌকার পক্ষে কাজ করার তেমন কোন সুযোগ পাচ্ছেন না বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান।

তবে এক্ষেত্রে রাজিন বলেন, কে আমাকে তোয়াক্কা করলো বা না করলো সেটি আমার জন্য বড় কথা নয়। নেত্রী সৈয়দ মনিরুল ইসলামকে মনোনীত করেছেন সেহেতু সৈয়দ মনিরুল ইসলামই আমার প্রার্থী। আমি নৌকার পক্ষে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি, আমার আমলের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে জনগনকে বুঝাচ্ছি। নৌকার পক্ষে জনগণের ব্যাপক সাড়া আছে এবং নৌকা প্রতিকে প্রার্থী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন।

একাধিক গোপন তথ্যমতে শিবগঞ্জ পৌর এলাকা বিএনপি-জামায়াতের ঘাঁটি, আওয়ামীলীগের একাধিক লবিং, বর্তমান মেয়রের সাথে নৌকার প্রার্থীর যোগাযোগের দূরত্ব সবমিলিয়ে বিএনপি অনেকটা এগিয়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো রাতদিন মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তারা আশাবাদী পৌরসভা সৃষ্টির পর এবারই প্রথম বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার জয় হবে। কারণ আওয়ামীলীগের ১২বছরের শাসন আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং সৈয়দ পরিবারের পক্ষ থেকেও জনসেবা মূলক কাজ করা হয়েছে। তাছাড়া নৌকার প্রার্থীর পক্ষে শক্তিশালী ছাত্রলীগ কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

এদিকে, সৈয়দ মনিরুল ইসলাম গত ১১ ফেব্রুয়ারী বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৬টি ইশতেহার ঘোষনা করেছেন। যা পৌরসভা সৃষ্টির পর এধরনের ইশতেহার কোন প্রার্থী ঘোষণা করেনি বলে অনেকেই জানান। তিনি আরো বলেন, আওয়ামীলীগের মধ্যে কোন লবিং-গ্রুপিং নেই। কারো সাথে কারো কোন মনোমালিন্য্ও নেই।

তিনি আরো বলেন, ভোটে কারচুপি বা অনিয়মের কোন প্রশ্নই ওঠে না। কারণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমি নৌকা প্রতিকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ। তবে তিনি কয়েকজন নেতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন তারা প্রকাশ্য নৌকার ভোট চাইলেও গোপনে ধানের শীর্ষকে বিজয়ী করার পয়তারা করছেন। আমরা মনিটরিং করছি। এটি সত্যি হলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তবে বিভিন্ন এলাকার পর্যপেক্ষদের ধারণা নির্বাচন উত্তরকালে শিবগঞ্জ পৌরসভার উন্নয়নের গতিকে তরান্বিত করতে হলে আওয়ামীলীগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিবগঞ্জে আওয়ালীগের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং এর অবসান ঘটিয়ে সকল ভেদাভেদ ভুলে একমঞ্চে নৌকা প্রতিকে সৈয়দ মনিরুরের পক্ষে কাজ করলে জয় সুনিশ্চিত হবে। নচেৎ ভরাডুবি নিশ্চিত ধরা যেতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali