শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিবগঞ্জে ভূয়া পোষ্য সনদে চাকুরীর অভিযোগ : মহাপরিচালকের কাছে আবেদন

মোহা. সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬ বার পঠিত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ভুয়া পোষ্য সনদে চাকুরী করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলারদূর্লভপুর ইউনিয়নের আটরশিয়া-২সরকারীপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভূয়া পোষ্য সনদে চাকরী করছেন সাবিনা ইয়াসমীন।

গত ০৭-০৯-২০২০খ্রী: তারিখে দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৩৩ রশিয়া গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে আব্দুল খালেকের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর করা আবেদন সূত্র জানা গেছে দূর্লভপুর ইউনিয়নের ৩৩রশিয়া গ্রামের মহসিন মাস্টারের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন গত ০৮-০১২-২০১৩খ্রী: তারিখে পোষ্য সনদে শাহাবাজপুর ইউিিনয়নের আজমতপুর চকপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা পদে যোগদান করেন।

কিন্তু সাবিনা ইয়াসমিন গত ২২-০১-২০০৬ খ্রী: তারিখে ১৯বছর বয়সে একই গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে তরিকুল ইসলাম লাল্টুকে বিয়ে করেন এবং ২৮-০১-২০১১ খ্রী:তারিখে ইসতেকিয়ার আহম্মেদ পরশ নামে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। সে সময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুস সাত্তার বিষয়টি জানতে পেরে সাবিনা ইয়াসমিনের পোষ্য সনদ পত্র জালিয়াতির অভিযোগে বাতিল করার সিন্ধান্ত নেন।

কিন্তু চাকুরী রক্ষা করার জন্য প্রথম বিয়ের কাবিলনামা জালিয়াতি করে ২৫-০১০-২০১৩খ্রী: তারিখেম একই ব্যক্তির সাথে বিয়ের কাবিল নামা দেখিয়ে সেই কাবিলনামার কপি জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে নিয়োগপত্র গ্রহন করেন।

আবেদনে আরো বলা হয়েছে যে এ ব্যাপারে ২০১৪-২০১৬ ও ২০১৯সালে মৌখিক কোন ফলাফল না পাওয়ায় গত ১৯-০৯২০১৯খ্রী: তারিখে আব্দুল খালেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও কোন তদন্ত না হওয়ায় আবারো গত ০৭-০৯-২০২০খ্রী: তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা পরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।যার অনুলিপি বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করেন।

আব্দুল খালেক মৌখিকভাবে এ প্রতিবেদককে বলেন সাবিনা ইয়াসমিন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে এবং এ ব্যাপারে তিনি সাবিনার টাকা লেনদেনের একটি অডিও রের্কড শুনান। এ ব্যাপারে সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আব্দুল খালেক অত্যন্ত দুষ্টু প্রকৃতির লোক।

তিনি আমাকে পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে আমার স্বামীকে ডির্ভোস করিয়ে আমাকে বিয়ে করে। কিছুদিন পর আমার ভুল ভাঙ্গলে তাকে ডির্ভোস দিয়ে আমার পূর্বের স্বামীকে বিয়ে করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরে আমাকে আবারো প্রস্তাব দেয় যে তোমার স্বামীকে ডির্ভোস দিয়ে আমার সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। নইলে তোমাকে দেখে নিব। আমি তার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার আসাদ্জ্জুামান বলেন, যেহেতু তিনি সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন সেহেতু আমার করনীয় কিছু নেই। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশনা দিলে তদন্ত করে দেখবো। পোষ্য সনদ সম্পর্কে বলেন বিয়ের পর কোন পোষ্য সনদ বৈধ নয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, আব্দুল খালেকের লিখিত অভিযোগ কপির অনুলিপি পেয়েছি। মহাপরিচালক মহোদয় নির্দেশ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে আমি প্রাথমিক পর্যায়ে আমি খোঁজখবর নিচ্ছি। উৎকোচ গ্রহনের ঘটনাটি তিনি অস্বীকার করে বলেন, তাদের দুজনের মধ্যে একটি বিষয়ে রহস্য থাকায় কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি করছে। তার পোষ্য সনদ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

 

Copyright © All rights reserved © 2019 Kansatnews24.com
Theme Developed BY Sobuj Ali
error: Content is protected !!